অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার নিনজা কৌশল কী?
অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার নিনজা কৌশল কী?
নিনজা টেকনিক? 😉
হ্যাঁ, একটা নিনজা টেকনিক আছে বৈ কি!
যখন অন্য কারুর প্রতি কোনো ব্যক্তির আচরণে ক্ষুব্ধ হই, তখন খুব জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস নি। আর নিজেকে বলি,
“এই ঘটনা আমায় নিয়ে নয়। এই ক্ষেত্রে চুপ করে থাকাই শ্রেয়। কারণ আমি দুটো কথা বললে, কারুর আচরণ সাময়িক ভাবে পরিবর্তিত হলেও, কোনো ব্যক্তির মানসিকতা পরিবর্তন করার সাহস বা ক্ষমতা আমার নেই। সুতরাং নিজের শান্তি রক্ষার জন্য আমি চুপ করে থাকবো।”
যদি কোনো ব্যক্তির আমার প্রতি আচরণে আমি ক্ষুব্ধ হই, তাহলেও দীর্ঘশ্বাস নি। আর তারপর নিজেকে বলি,
“এই সময়ে আমার মতো, সেও রেগে আছে। তাই এখন কিছু বললেও সে তার বিবেক দিয়ে বিবেচনা করতে পারবে না, আর উল্টে আরো গন্ডগোল হতে পারে। রাগের মাথায় তাই আমি কিছু বলব না। আমার শান্তি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
আমার কয়েকটা কথা শুনে মনে হতেই পারে যে এই ভাবনা স্বার্থপর। হ্যাঁ, স্বার্থপর হতেই পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বার্থপর হতে হয়।
আমি যখন ছোট ছিলাম, আমি খুব সহজে রেগে যেতাম। আর চুপ করে থাকতাম না। রাগের মাথায় যা মনে হত বলে দিতাম। মা চিরকাল আমায় বোঝাতেন যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুপ করা মানেই জিতে যাওয়া। কিন্তু ওই যে, ছোট ছিলাম। তাই ভাবতাম চুপ করে যাওয়া মানে হেরে যাওয়া।
এই লকডাউনে আমি নিজেকে অনেকটা বদলাতে পেরেছি। মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছি।
আমি সবসময়ে নিজের মধ্যে এই গুণটা আয়ত্ত করার চেষ্টা করতাম। এমন একটা মানুষ হতে চাইতাম, যে নিজের আবেগের বশে নিজের শান্তি বিঘ্নিত না করে। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানের বই পড়ে, আমি এই পরিবর্তন আনতে অনেকটা সফল হয়েছি।
হ্যাঁ, আমি এখনো রেগে যাই, খুব স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। নিজের শান্তিকে গুরুত্ব দিতে পারি। আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীরবতাকে জয় হিসেবে দেখতে পারি, বিশেষ করে যেখানে কথা বলা নিরর্থক। (ব্যতিক্রম অবশ্যই রয়েছে।)