পৃথিবীতে মানুষের চাহিদা শেষ হয় না কেন?
পৃথিবীতে মানুষের চাহিদা শেষ হয় না কেন?
আন্তরিক ধন্যবাদ এমডি.হারুন উর রাশিদ ভাইকে, প্রশ্ন করেছেন- পৃথিবীতে মানুষের চাহিদা শেষ হয় না কেন?
পৃথিবীতে মানুষ নিজের চাহিদা নিজেই সৃষ্টি করে।
একটা সময় ছিলো টিভি ছিলো না, মোল্লাদের ধর্ম প্রচার থেমে ছিল না।
টিভি এলো।
মুসলিম ধর্মীয় নেতা বা মোল্লারা টিভির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপারে প্রথমে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছিলেন মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক কারণেই। প্রাথমিকভাবে তারা এটিকে হারাম বা নিষিদ্ধ মনে করতেন, কারণ টিভি বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট প্রচার করে, যার মধ্যে নাচ-গান, চলচ্চিত্র, নাটক বা অনৈতিক উপাদান থাকতে পারে, যা ইসলামের সংযম ও নৈতিকতার নীতির বিপরীত। এছাড়া, ইসলামে চিত্র বা জীবন্ত প্রাণীর ছবি আঁকা ও প্রদর্শনের ওপর ঐতিহাসিকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ থাকায়, অনেক আলেম মনে করতেন যে টিভি দেখা ও ব্যবহার করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ হতে পারে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং ইসলামী চিন্তাবিদদের একটি বড় অংশ বুঝতে পারেন যে টিভি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি দ্বীনের দাওয়াত, শিক্ষামূলক আলোচনা এবং ইসলামের প্রচারের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে, তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। অনেক আলেম ও ইসলামী প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারেন যে টিভিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান না করে বরং এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই উত্তম পন্থা। এ কারণে তারা ইসলামিক অনুষ্ঠান, বক্তৃতা, ফতোয়া প্রদানের মতো কার্যক্রম টিভির মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। একইভাবে, পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মেও তারা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, যা ইসলামের প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়।
এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়, বরং এর ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে এর নৈতিকতা নির্ধারিত হয়। প্রথমদিকে যে জিনিসকে হারাম বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে যখন সেটিকে ইসলামের সেবায় ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হলো, তখনই সেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল। এটি প্রযুক্তির প্রতি মুসলিম সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিবর্তনমূলক পরিবর্তন, যা সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গঠিত হয়েছে।
অতএব জীবনের মান উন্নয়নের স্বার্থে উদ্ভাবন যেমন অনিবার্য, তার সঙ্গে তালমিলিয়ে চাহিদার শেষ নাই।